হযরত জামাই পাগল মুর্শিদ (রহঃ)

হযরত জামাই পাগল মুর্শিদ (রহঃ)

হযরত জামাই পাগল মুর্শিদের (রহঃ) এঁর জামাই পাগল তাঁর প্রকৃত নাম নয়। ইহা তাঁর উপাধি। মুর্শিদের প্রকৃত নাম জানা যায় নাই। আলাদিপুরে আসার পূর্বে তিনি পাংশায় ছিলেন এবং সেখানেই ‘জামাই পাগল’ উপাধি হয়েছিল। এরপর তিনি পাংশায় বেশি দিন থাকেন নাই। পাংশা থেকে রাজবাড়ী হয়ে আলাদিপুর আসেন। এখানকার মানুষ তাঁকে ‘মুর্শিদ’ বলে সম্বোধন করতেন। এই ‘জামাই পাগল’ এবং ‘মুর্শিদ’ সংযোগে তাঁর নাম ‘জামাই পাগল মুর্শিদ’ হয়। তিনি আমাদের সকলের কাছে ‘জামাই পাগল মুর্শিদ’ নামে পরিচিত। মুর্শিদ এই অঞ্চলে কখন আসেন তা কেহ সঠিক ভাবে বলতে পারে নাই। তবে দুইটি ঘটনা থেকে তাঁর আগমন এবং বেছলের সময় নির্ণয়ের চেষ্টা করব।

কোমর পাড়ার জনাব মো: কোকিল উদ্দিন মিয়া ওরফে ছোট বিষু সাহেব বলেন, ২০০৯ সালে তাঁর বয়স একশত দশ-এগার বছর। সে হিসেবে তাঁর জন্ম সাল হয় ১৮৯৯ (বাংলায় ১৩০৬, জ্যোষ্ঠ্য মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ, শুক্রবার) এবং সঠিক। তিনি মুর্শিদকে দেখেছেন ৮ অথবা ১০ বছর বয়সে। সে হিসেবে ধরে নেওয়া যেতে পারে মুর্শিদ এখানে ১৯০৭ বা ১৯০৯ সালে ছিলেন অথবা এই সময়ের আগেই এসেছিলেন। আবার তার বয়স যখন ১৫/১৬ তখন যদি মুর্শিদ বেছালে গিয়ে থাকেন তবে মুর্শিদের বেছালের সাল হয় ১৯১৪/১৯১৫। জনাব শামসউদ্দিন আহম্মদ খান বলেন, ‘আমার বাবা মরহুম জনাব আলী মদ্দীন খান ৭০/৭২ বছর বয়সে ১৯১৬ সালে দুনিয়া ত্যাগ করেন। সে হিসেবে তাঁর জন্ম সাল হয় ১৮৯০/১৮৯২। আমার নিজের জন্ম সাল ১৯৪২ (বাংলা ১৩৪৯)। সে সময়ে আমার বড় ভাইয়ের বয়স ছিল ১০/১২ বছর। সে হিসেবে ভাইয়ের জন্ম ১৯৩২/১৯৩০ সালে। তার বয়স যখন ৬/৭ তখন ইংরেজী সাল ১৯৩৮/১৯৩৭। তখন বাবা ভাইকে নিয়ে মুর্শিদের নিকট গিয়েছিলেন’। তাহলে দেখা যায় যে, মুর্শিদ ১৯৩৮/১৯৩৭ সালের দিকেও জীবিত ছিলেন। বিষু সাহেবের দিক থেকে হিসাব করলে দেখা যায় মুর্শিদের আগমন ১৯০৬ সালের দিকে এবং ১৯১৪-১৫ সালের দিকে বেছালে যান। অর্থাৎ ১৯০৬ সালের আগে বা পরে তিনি এখানে আসেন। কিন্তু বেছালে যান। অর্থাৎ ১৯০৬ সালের আগে বা পরে তিনি এখানে আসেন। কিন্তু বেছলের সময়ে ভিন্নতা দিখা যায়। অনুমান করা যায় মুর্শিদ এই অঞ্চলে আসেন ১৯০০ সালের পরে। কারণ বিষু সাহেবের বয়স যখন এক/দেড় বছর তখন মুর্শিদ পাংশায় ছিলেন। কিন্তু একটি সুত্রে জানা যায়, মুর্শিদ ১৯৪৮ (বাংলা ১৩৫৪ সালের ১৫ ফাল্গুন) সালের মার্চ মাসের কোন একদিন বেছাল ফরমান । প্রতি বছর বাংলা ফাল্গুন মাসের পনের তারিখে উরশ শরীফ ও বাৎসরিক মাহ্‌ফিল উদ্‌যাপিত হয়।

মুর্শিদের মাজার শরীফ আলাদিপুর বাজার থেকে আধা কিলোমিটার পশ্চিমে এবং রাস্তার বাম পার্শ্বে অবস্থিত। মাজার শরীফ সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। রাস্তা থেকে মাজার পর্যন্ত একটি খোলা মাঠ ও রাস্তা সংলগ্ন মসজিদ আছে। এই মাঠে ঈদের জামাত এবং উরশের সময় মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাজার শরীফটি বিঘা খানেক জায়গায় নিয়ে আছে। মাজার ভবনের মধ্যে জামাই পাগল মুর্শিূদের রওজার ডান পার্শ্বে তাঁর খাদেম নূর বাকের শাহর কবর এবং তাঁর ডানে মহিলা খাদেম গৌরী বালার কবর দেখা যায়।

মুর্শিদকে যারা দেখছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বর্তমানে জীবিত আছেন। তিনি হলেন কোমর পাড়ার ছোট বিষু সাহেব। এই শতবর্ষী মানুষটি মুর্শিদের সাথে তার শৈশর জীবনের ঘটনা বলেছেন। তাছাড়া তিনি যা দেখেছেন এবং প্রত্যাক্ষ করেছেন এরুপ অনেক ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তাঁর স্বরণে যেটুকু এসেছে এবং ধৈর্য সামর্থ্য হয়েছেন ততটুকু দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। সেগুলো ইতিহাসের পাতায় লপিবদ্ধ থাকবে। মরহুম জনাব আলী মদ্দিন খানকে লোকে আলফু খাঁ বলে সম্বোধন করতেন। বিষু সাহেবের সাথে তার ভাল সম্পর্ক ছিল। তিনিও মুর্শিদকে দীঘ সময় পেয়েছিলেন। জনাব শমসউদ্দিন আহম্মদ খান তাঁর বাবা মরহুম জনাব আলী মদ্দিন খান থেকে কেছু ঘটনা শুনেছেন এবং সে গুলোর কিচ্ছু তথ্য কর্ণনা করেছেন। আর উল্লেখযোগ্য কোন ব্যক্তির নিকট থেকে তেমন কোন তথ্য নিতে পারি নাই। যদি আজ থেকে পনের-বিশ বছর পূর্বে একাজে হাত দিতাম তাহলে পান্ডুলিপির আকার অনেক বড় হত। এতে কোন সন্দেহ ছিল না। কারণ এই সময়ে মধ্যে অনেক প্রবীণবর্গ দুনিয়া ত্যাগ করেছেন যারা মুর্শিদকে দেখেছেন এবং তাঁর সান্নিধ্য লাভ করেছেন। তারা মুর্শিদের কোন ঘটনা সংরক্ষণ করে যান নাই। সে সময়ে মানুষেরা যাই দিখেছেন বা শুনেছেন কেহ তা সংরক্ষণের বিষয়ে আগ্রহ করেন নাই। সে জন্য অনেক ঘটনা বা কাহিনী কালের গহ্বরে হারিয়ে গেছে। অবশিষ্ট, মানুষের মুখে মুখে কাহিনী রুপে বিবৃত হয়ে এসেছে।

মুর্শিদ যশোরে পুলিশ ডিপার্টমেন্টে চাকুরী করতেন এবং সেখানে সার্কেল অফিসার ছিলেন। তার জন্ম স্থান, পরিবর-পরিজন, কোন বংশের সে সম্বন্ধে কোন তথ্য পাওয়া যায় না। যশোরে থাকার সময় বিয়ে-শাদি করেছিলেন কী না বা করলেও তাঁর কোন সন্তান ছিল কী না সে  বিষয়েও কোন তথ্য পাওয়া যায় না। তিনি সে সময়ে একটি জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ইতোমধ্যে তাঁর সাথে একজন দরবেশের সাক্ষাত হয়। দরবেশের নিকট তাঁর বীমারগ্রস্থতার কথা জানান। উক্ত দরবেশ তাঁকে বলেন, ‘সব ভাল হয়ে যাবে যদি সব ত্যাগ করে আসতে পার’। মুর্শিদ তাঁর কথায় সব ত্যাগ করে দরবেশের সঙ্গী হয়ে যান। এর পর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় না। জীবনের কোন এক পর্যায়ে মুর্শিদ পাংশায় চলে যান। পাংশায় কখন এবং কিভাবে যান সে বিষয়ে কোন তথ্য নাই। শুনেছি পাংশা বাজারের অলি-গলিতে ঘুরে বেড়াতেন এবং নিকটস্থ কমুদিনী নামে এক মহিলার ঘরের বারান্দায় রাত কাটাতেন। কমুদিনী প্রতিদিন মুর্শিদের থাকার জায়গা লেপে-পুছে দিতেন। সেখানে মুর্শিদ ‘পাগল’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। এক পর্যায়ে বিয়ের ঘটনা থেকে লোকে তাঁকে ‘জামাই পাগল’ বা ‘পাগল জামাই’ বলেন।

প্রত্যক্ষদশী বলেছেন মুর্শিদ খুব কালো ছিলেন। মাথায় চুল ছিল না এবং শরীর বেশ মোটা ও মেদ ছিল। উচ্চতা মাঝারী গড়নের ছিল, চক্ষুদ্বয় রক্তিম এবং ভয়ার্ত ছিল। মোট কথা তাঁকে দেখলে ভয়-ভয় লাগত। সারাক্ষনই নাকি শরীরে কাদা-মাটি মাখা থাকত এবং বসনবিহীন অবস্থায় থাকতেন। তবে কোন আলেম লোক দেখলে কারো কাছ থেকে গামছা বা কাপড় নিয়ে পর্দা করতেন। আবার কখনও লেংটি পরে থাকতেন। পেট বড় থাকায় তাঁর নফসটি দেখা যেত না। তাঁকে কোন কথা বললে তিনি একই কথা বলে পুনঃরাবৃত্তি করতেন। কথা গুলো যখন বলতেন তখন একটু কাব্য ভঙ্গিমায় বলতেন।

রামকান্তপুর রাঁধাগঞ্জ বিলের পশ্চিম তীরে মোহন সাহ’র বটতলায় একটি বড় বাজার ছিল। এই মোহন সাহ বারবাকপুরের জমিদার ছিলেন। তার কোন ওয়ারিশ না থাকায় ভাবেন তার মৃত্যুর পর তাকে কেহ স্বরণ করবে না। এই অনুভূতি থেকে তিনি ঐ জায়গায় একটি জিকা গাছ ও বটগাছ লাগান। তাই আজ মোহন সাহর বটতলা নামে খ্যাত। সত্যিই আজও মানুষ তাকে স্বরণে রেখেছে। এখন ঐ বাজারের আকার অনেক ক্ষুদ্র হয়ে এসেছে। বর্তমানে মাত্র সাত-আটটি দোকান ঘর আছে। পূর্বে দূর-দূরান্ত থেকে প্রচুর লোকের সমাগম হত। বিলটি বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল ফলে নৌকায় করে বণিকেরা আসত তাদের পণ্য নিয়ে। এখন এই বাজারের খ্যাতি বিলিন হয়ে গেছে। বাজারের এক দোকানি মুর্শিদের সাথে অন্যায় আচরণ করে ফলে বাজারটি আগুনে ধ্বংস হয়ে যায়। তারপর থেকে ঐ বাজারের পতন ঘটতে থাকে। বিষু সাহেব বলেন তার দেখা মতে চায় বার বাজার বসানোর চেষ্টা করা হয় কিন্তু সম্ভব হয়নি। প্রায় সময়েই আগুন লেগে পুড়ে যায়। বাজারটি মোহন সাহর বটতলার বাজার নামে পরিচিত ছিল। বছর কয়েক হলো স্থানীয় লোকজন একে মুর্শিদের বাজার বলে থাকে।

রাঁধাগঞ্জ বিল এক সময় একটি খরস্রোতা নদী ছিল। তাও সাত-আটশত বছর পূর্বের কথা। হযরত শাহ্‌ জঙ্গী (রহ:) এঁর একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারা যায়। সেই নদীর চিহ্ন এখনও আছে সুতা গাং নামে। এই রাঁধাগঞ্জ মুর্শিদ নাক ভাসিয়ে ডুবে থাকতেন। সারা দেহে বড় বড় জোঁক লেগে থাকত। তিনি যখন উঠে দাঁড়াতেন তখন জোঁকগুলো ঝোড়ে পরে যেত। মুর্শিদ আবার জোঁকগুলোকে উঠিয়ে দিতেন আর বলতেন যাস্‌ কেন? যাস্‌ কেন? খা! খা! বিষু সাহেব বলেন, দেখেছি জোঁকগুলো মুর্শিদের দেহের রক্ত খেত না। তাঁর সাখে অন্য কেহ পানিতে নামলে তাদেরকে জোঁক স্পর্শ করত না। তিনি বিলের কাদা-মাটিতেই বোশি সময় থাকতেন তাই সারা শরীরে কাদা মাখা থাকতো। মুর্শিদের থাকার নির্দিষ্ট কোন স্থান ছিল না। কখনও মোহন সাহর বটতলায় আবার কখনও রামকান্তপুর পাঠান পাড়ায় কারও ঘরের বারান্দায় আবর কখনও রামকান্তপুর পাঠান পাড়ায় কারও ঘরের বারান্দায় আবার কখনও খড়ের গাদায় শুয়ে থাকতেন।

মুর্শিদের এরকম এলোমেলো চলাফেরার এবং নামাজ-রোজা না করার জন্য স্থানীয় কিছু সংখ্যক লোক জন তাঁর বিরোধীতা করে। এক পর্যায়ে এই বিরোধীতা চরমে পৌঁছায়। তৎকালীন সময়ে রাজবাড়ী সোনাকান্দরে জৈনপুরের পীরের মুরীদ ও খলিফা জনাব আব্দুল লতিফ মৌলভী সাহেবের দ্বারস্থ হয়েছিল এলাকাবাসী। জনাব আব্দুল লতিফ মৌলভী সাহেব তাদেরকে বলেন, আমি মুর্শিদের সঙ্গে কথা বলব তারপর যা করার করব, তার আগে যেন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এলাবাসী মুর্শিদকে আব্দুল লতিফ মৌলভী সাহেবের আসার ব্যাপারে বলেছিলেন কি না তা জানা যায় নি। তবে আব্দুল লতিফ মৌলভীকে আসতে দেখে মুর্শিদ এক টুকরা কাপড় পরে তাঁর নিকট যান। মৌলভী সাহেবের সাথে তিনি অতি সাধারণ ও স্বাভাবিক ভাবে আলাপ আলোচনা করতে থাকেন। অভিযোগকারীরা দুরে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকেন। জনাব মৌলভী সাহেব তাঁর কাছে জানতে চান আপনি বিবস্ত্র থাকেন কী না? জবাবে মুর্শিদ বলেন, বিবস্ত্র থাকি তবে কোন মানুষের সামনে থাকি না। এ ভাবে মৌলভী সাহেবের সাথে তাঁর অনেক সময় ধরে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে আব্দুলি লতিফ মৌলভী স্থানীয় লোকদের বলে যান মুর্শিদ ঠিক আছে। তিনি শরীয়ত মত চলুক আর নাই চলুক তাঁর কাজ-কর্মে কোন প্রকার বাঁধা দিবে না এবং কোন প্রকার সমালোচনাও করবে না। তাঁকে তোমরা চিন নাই এবং তাঁর কর্ম-কন্ড তোমাদের বুঝের বাইরে। এলাকাবাসীকে এই উপদেশ দিয়ে তিনি চলে যান। শুনেছি, আব্দুল লতিফ মৌলভীর সাথে মুর্শিদের যোগাযোগ হতো নিয়মিত।

মৌলভী সাহেব পরে একবার এসে দেখেন, মুর্শিদ একটি দাঁড়ান কলাগাছের পাতায় দাঁড়িয়ে আছরের নামাজ আদায় করছেন। মৌলভী সাহেব এই দেখে এলাকা বাসীকে বলে যান, এই কলাগাছের জায়গাতে মুর্শিদের কবর হবে। তাই জায়গাটি পরিস্কার করে রাখতে বলেন। মূলত: সেখানেই মুর্শিদের মাজার হয়। শুনেছি, এ আব্দুল লতিফ মৌলভী সৌদি আরবে ইন্তেকাল করেন এবং জেদ্দায় মা হাওয়া (আ:) এঁর রওজার পাশে তাঁর কবর।

মুর্শিদ জীবদ্দশায় অনেক বঞ্চনার শিকার হয়েছিলেন। এই মানুষগুলো তাঁর সাথে বিরোধীতা ও নানা ধরণের অপব্যবহার করেছিল। কেহ ঘৃণার দৃষ্টি দিয়ে দেখত আবার কেহ দা-কুড়াল,লাঠি দিয়ে আঘাত করতো। একবার পাঠান পাড়ার জনৈক ব্যাক্তি মুর্শিদকে দা দিয়ে হাতে কোপ দিয়েছিল। যার জন্য এলাকায় কলেরার প্রাদুর্ভাব হয়ে শত শত লোক মারা গিয়েছিল।     ঐ ক্ষত স্থানে পোকা হয়েছিল। তিনি কখনও ঐ পোকাকে তাড়িরে দেন নাই বরং কোন পোকা পড়ে গেলে তা আবার উঠিয়ে দিতেন এবং বলতেন, যাস কেন? খা! জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি ঐ পোকা তাঁর দেহে লালন-পালন করেছেন। বলতেন, ‘ওরা যাবে কোথায়? থাকুক না এখানে। মরণের পর তো ওরা এমনিতেই খাবে’। কেমন দয়ার সাগর মুর্শিদ ছিলেন যা ইতিহাসে বেরল। তিনি নবীও নন আবার সাহাবীও নন। কিন্তু ধৈর্য-সহ্য, ত্যাগ-তিতিক্ষা, কষ্ট-সহিষ্ঞুতায় এবং ক্ষমাশীলতার অপূর্ব নিদর্শন সৃষ্টি করেছেন। যা অতীতের নবী হযরত আ’য়ুব১ (আ:) এঁর ক্ষেত্রে দেখা যায়। এরুপ কঠিন পরিক্ষায় অবর্তীণ হতেন যা যুগে যুগে নবী-রাসুলগণ এবং আল্লহ্‌র প্রেমিকগণ সকলেই উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রভুর প্রেমে বিভর বান্দাগণ কঠিন পরীক্ষায় আহ্! শব্দটি পর্যন্ত করেন নাই। আখেরাতের একটি আহ্‌! শব্দের উচ্চারণের মধ্যে দুনিয়ার অসংখ্য জীবনকাল অতিবাহিত হয়ে যাবে। সুতরাং মওলার প্রেমিকেরা কখনও আহ্‌! শব্দটি মুখে বা অন্তরে স্থান দেন নাই।২ মনে হয়, আল্লাহ্‌ প্রেমের অপার রহস্য এখানেই নিহিত আছে। বেছালের সময় বা পরে মানুষ তাঁর কাছে আসে নাই। কারণ, তার গায়ে পোকা ও দুর্গন্ধ ছিল তাই সাধারণ লোকেরা তাঁর কাছে আসত না। এভাবে আল্লাহ্‌র আশেকের দেহ পড়ে থাকতে পারে। তাই মহান আল্লাহ্‌ তাঁর আশেকের জানাজার জন্য অদৃশ্য জগত থেকে পবিত্র আত্নাদের পাঠিয়েছেন সকল সরঞ্জাম সহ। দুনিয়ার মানুষেরা তাঁকে না চিনলেও আল্লহ্‌ তাঁকে চিনেছেন। দুনিয়ার মানুষেরা তাঁকে গ্রহণ না করলেও তাঁর প্রভু তাঁকে ঠিকই গ্রহণ করেছেন। দুনিয়ার সকল উপাদান ত্যাগ করে যিনি এক আল্লহ্‌র হয়েছেন তাই আল্লাহ্‌ পাকও তাঁকে দুনিয়া ব্যতীত একক রুপে গ্রহণ করেছেন। এখানেই আশেক ও মাশুকের যাবতীয় খেলার রহস্য বিদ্যমান।

ইতিহাসের পাতায় অনুসন্ধান করলে দেখা যায় মানুষ যুগে যুগে অলী-আউলিয়াদের বিরোধীতা করতো। এমন কি তাঁদের সঙ্গে অবর্ণনীয় খারাপ ব্যবহার করতো। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আবর্তে জড়িয়ে পরত। লোক মুখে প্রচারিত হতে থাকে অমুক অলী বা পাগলের সাথে এরুপ ব্যবহারের জন্য অমুকের সেরুপ ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু এরুপ দেখা যায় না যে অমুক অলীর সংস্পর্শে অমুক অলি হয়ে গেছে। এটা সে সময় মানুষের জন্য দূর্ভাগ্য ছিল। যা সময় পরিক্রমায় বর্তমানে ঢের বেশী। এ জন্য দেখা যায় অলী আল্লাহ্‌দের ঘটনা সমূহ বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে শাস্তি মুলক বিবৃত হয়েছে কিন্তু খুব কম সংখ্যকই প্রশংসা মূলক এসেছে। ইতিহাসে পরিদৃষ্ট হয় যে, মানুষ নেতিবাচক দিকগুলোই বেশী স্বরণ রাখে। ইংরেজী ১৭০০ সালের মাঝের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে ওহাবী আন্দোলন৩ শুরু হয়েছিল। তখন প্রবল গতিতে এই মতবাদ প্রচার ঘটে ইংরেজ বাহিনীর সহায়তায়। এই মতবাদের মূলে অলী-আউলিয়া বিদ্বেষ বিদ্যমান এবং তৎকালীন সময়ে লাখ সূন্নী মুসলিম জনতাকে হত্যা করা হয়েছিল। তার প্রভাব আমাদের উপমহাদেশেও বিস্তার লাভ করেছিল এবং অলী বিদ্বেষের বিষবৃক্ষ এখানেই রোপিত হয়েছিল। বর্তমানে এই বিষবৃক্ষের শাখা-প্রশাখা বিস্তার লাভ করে সমাজ ও স্থান-কাল ভেদ সকল কিছুকে গ্রাস করে ফেলেছে।

শুনেছি, শুধু গহের ফকির মুর্শিদের সাথে চলে কিছু পেয়েছিলেন। গহের ফকিরকে নাকি রাঁধাগঞ্জ বিলের পানিতে ডুবিয়ে তার পিঠের উপর দাঁড়িয়ে থাকতেন। শুনা যায়, যারা মুর্শিদের সাথে যেয়ে ফিরে এসেছে তারা সকলেই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। জনাব বিষু সাহেব বলেন, ‘জনৈক আলেম লোক মুর্শিদের সাথে কিছুদিন চলেন। একদিন মুর্শিদ রাঁধাগঞ্জ বিলের পানিতে ঘন ঘন ডুব দিতে থাকেন আর পায়খানা করতে থাকেন। সহচরকে বলেন,তাঁর সাথে পানিতে নেমে ডুব দিতে। কিন্তু লোকটি মুর্শিদের পায়খানা করার দৃশ্য দেখে ঘৃণা হয়। ফলে লোকটি আর পানিতে নামে না। মুর্শিদ তাকে তাড়িয়ে দেয়। শুনেছে লোকটি বেশী দিন বাঁচে নাই’। আবার কিহ বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে থাকলে মুর্শিদ পানিতে নেমে অবিরাম ডুব দিতে থাকেন। পানিতে ঢেউ এর ফলে তারা মাছ ধরতে পারতো না। তাই মাছ ধরার লোকেরা তাঁকে বকাবকি করত। মুর্শিদ পানি থেকে উঠে এসে মাছ ধরার লোককে ধরে নিয়ে পানিতে ডুবিয়ে দিতেন আর বলতেন এখন মাছ ধর যেয়ে। এরপর তারা অনেক মাছ ধরতে পারতো। আজও মুর্শিদের স্মৃতি বিজড়িত মোহন সাহের বটতলায় কেহ জেনে শুনে প্রকৃতির কাজ সম্পন্ন করে, তাহলে তাকে তার শাস্তি পেতে হয়। দেখা যায়, দূর-দূরান্ত থেকে জাত-কূল নির্বিশেষে ভক্তবৃন্দ সেখানে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। অনেকে বলেছেন আজো মুর্শিদ মোহন সাহের বটতলায় গভীর রাতে বসে থাকেন। মুখে কথা বলে না, হাত বা মাথা দিয়ে সারা দেন। তাঁকে ধরেওে দেখেছে, বাড়ীতেও নিয়ে ভাত খাওয়ায়েছে। কাপড় পরিয়েছে, সঙ্গে হেঁটেছেন এরই ফাঁকে অদৃশ্য হয়ে গেছেন। হাঁটতে হাঁটতে শাহ্‌ সাহেবের মাজারের দিকে গেলেই অদৃশ্য হয়ে যান। তারা বুঝতে পারে ইনিই মুর্শিদ। এগুলো ভাবাবেগের  কথা নয় বরং এটাই সত্য। মুর্শিদের বেছালের পরে অনেকেই তাঁকে বিভিন্ন ভাবে একাধিক জয়গায়  দেখেছেন। দুঃখে ভারাক্রান্ত ভক্তের সঙ্গে নির্জনে সাক্ষাত দিতেন এবং তাদের মনবাসনা পুরণ করতেন। তত্ত্ব জ্ঞনীগণ বলেন, ‘মুর্শিদ আমাদের গৌরব, আমাদের অহংকার এবং আমাদের কিংবদন্তী’। আজও অসহায়, এতিম, অনাথ অভাবগ্রস্থ, নির্যাতিত ও নির্যাতিতা, ব্যাধিগ্রস্থ জনতা, বেদনায় কাতর যিয়ারতকারী এবং ফায়েজ অনুসন্ধানীরা খুঁজে ফেরে মুর্শিদকে তাদের মুর্শিদের মাজারে।সত্যিই মুর্শিদ তাঁদের সকলের কিংবদন্তী যে কিংবদন্তী কোন লয় নেই। তিনি সকলের আশ্রয় দানকারী, অসহায়ের সহায় অনাথের নাথ বিপদগ্রেস্থর উদ্ধাকারী। তিনি চিরন্তন হয়ে আছেন ভক্তের হৃদয়ের গভীর। চির অম্লান হয়ে থাকবেন অজস্র ভক্তের মাঝে।

জনাব বিষু সাহেব বলেন, ‘মুর্শিদের বেছালেন পর আমরা তাঁর কবর বাঁশ দিয়ে ঘিরে দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে নূর বাকের শাহ্‌ ইট দিয়ে ভবন নির্মাণ করেন। মুর্শিদের বেছালের পর স্থানীয় লোকেরা তাঁর কবর  স্থান থেকে গভীর রাতে বাঘের ডাক শুনতেন। তাঁর মাজারের উপর যে ভবন আছে তা কতদিন পূর্বে নির্মাণ হয়েছিল তা সঠিক ভাবে জানা যায় নাই। গত শতাব্দীর শেষ প্রান্তে এসে কিছুটা বর্ধিত করা হয় এবং শোভা বর্ধন করা হয়। মাজারের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে তাঁর গোসল গাহ এখনও সংরক্ষিত আছে।

এক ভক্ত বলেন মুর্শিদের মাজারে উরসের সময় যেতাম। অনেক লোকের সমাগম হত এবং বহু দূর-দূরান্ত থেকে লোকেরা উরস ও মাহ্‌ফিল আসে। মুর্শিদের মাজারে অনেক অচেনা-অজানা পাগল, মজ্জুব অলী ও সাধকগণ আসেন। একটি সূত্রে জানা যায় যে, মুর্শিদ (বাংলা১৩৫৪ সালের ১৫ ফাল্গুন) ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসের কোন এক তারিখে বেছাল শরীফ যান। সঠিক কি না তা আল্লাহ্‌ই ভাল জানেন। প্রতি বছর ১৫ ফাল্গুন মহা সমারহে উরশ শরীফ উদ্‌যাপিত হয়। কবির ভাষায় বলতে হয়:

কঠিন জীবন-পথের অক্লান্ত সৈনক

মুর্শিদ ঘুমায় হেথা চির-নির্ভীক।

অশেষ স্মৃতি হোক চির অম্লান,

ফায়ুজাতে ভক্তগন করুক স্নান।

 

হযরত নূর বাকের শাহ্‌ (রহঃ)

জামাই পাগল মুর্শিদের পর জনাব নূর বাকের শাহ্‌ তাঁর মাজারে খেদমতে আত্ননিয়োগ করেন। তিনি সম্ভবত পাকিস্থান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কয়েক বছর পর মুর্শিদের মাজারে আসেন। ১৯৯০ ইং সালে, বাংলায় ১৩৯৭ সালের ২৫ বৈশাখ রোজ বুধবার বেছলে যান। বিষু সাহেব বলেন, ‘নূর বাকের শাহ্‌র বাড়ী  পাবনা জেলার খাঁপুরে। সেখানে তিনি চারটি ডাকাত দলের সরদার ছিলেন। সেখান থেকে কিভাবে যেন কোলার হাটের নিকটস্থ দক্ষিণ গাবলায় আসেন এবং এক বিধবা মহিলার বাড়ীতে কাজকর্ম করতেন। পাবনায় থাকা অবস্থায় তাঁর একটি কন্যা ছিল এবং স্ত্রী মারা গিয়েছিল। দক্ষিণ গাবলায় বিধবা মহিলারও একটি ছেলে ছিল। অনেদিন কাজ করার পর ঐ মহিলাকে বিয়ে করেন। নূর বাকের শাহের কন্যা ও মহিলার ছেলেটি আছে। তারপরে কোন এক সময় তিনি মুর্শিদের মাজারে আসেন। তিনি মুর্শিদদের জীবিত থাকা অবস্থায় এসেছিলেন কি না তা জানা যায় নাই। তবে খুব সম্ভব তিনি মুর্শিদকে পেয়েছিলেন।

 

জনাব হযরত নূর বকের শাহ্‌র কিছু কথা জনাব শামস্‌উদ্দিন আহম্মেদ খান সাহেবের নিকট থেকে শুনেছি। তার সাথে তাঁর ভাল সর্ম্পক ছিল। তিনি ছালা পড়তেন আবার কখনও দু’টি লাল কাপড়ের টুকরা এবং একটি থলে ব্যবহার করতো। তাঁর সময়ে মাজারে অনেক উন্নতি হয়েছে। তাঁর সময়ে গৌরী বালা নামে এক মহিলা ভক্ত মাজারে আসেন। লোক তাকে মা পগলী বলতো। তিনি বাংলা ১৪১১ সালের পৌষ মাসে (২০০৪ ইং সালের জানুয়ারী মাসে) ইন্তেকাল করেন। জনাব নূর বাকের শাহ্‌ ও গৌরী বালার কবর মুর্শিদের মাজার ভবনের মধ্যে ডান দিকে অবস্থিত।

 

হযরত গৌরী পাগলী (রহঃ) এঁর মাজার শরীফ

ঘটনা-১। ছোটটা না বড়টা

বড় ভাই রহিম আলী খান অল্প বয়সে মাতৃহারা হন। সম্ভবত এক কি দেড় বছর বয়সে তিনি মাতৃহারা হন। বাবা মাতৃহারা ছেলেকে নিয়ে সমস্যায় পরেন।  ভাই সব সময় রোগাগ্রস্থ থাকতেন এবং পেটটা বড় ছিল। যেখানে বসতো সেখানেই বসে থাকতো। যখন তার বয়স ছয় কি সাত একদিন বাবা মাকে বললেন, মনিকে নিয়ে মুর্শিদের কাছে যাব দেখি ওর অসুখটা ভাল হয় কি না। তুমি একটি মোরগ জবেহ করে রান্না কর আর পিঠা বানাও আমি মিষ্টি নিয়ে আসি। এই কথা বলে বাবা বাজারে চলে যায়। এদিকে বাড়ীতে দুইটি মোরগ ছিল। একটি বড় অপরটি ছোট। মা মোরগ জবেহ করার সময় চিন্তা করেন ছোটটা জবেহ করবো না বড়টা জবেহ করবো? এভাবে দোটানায় পরে যান। যাহোক তিনি বড়টিই জবেহ করলেন এবং রান্না করলেন। বাবা বাজার থেকে এসে ভাইকে কাঁধে নিয়ে মিষ্টি, গোস্ত ও পিঠা সহ মুর্শিদের কাছে যাইতে থাকেন।

 

মুর্শিদের থাকার সম্ভাব্য স্থানে গিয়ে মুর্শিদকে পেলেন না এবং মানুষকে জিজ্ঞাসা করেন, মুর্শিদ কোথায়? মর্শিদকে দেখেছেন? তারা বলে এই যে এখানে বসে ছিল, এখনি তো গেল। এভাবে সারাক্ষণ সন্ধান করলেন কিন্তু তাঁর দেখা পেলেন না। বাবা এদিকে সন্ধান করলে লোকে বলে ঐ দিকে আবার ঐ দিকে গেলে বলে এ দিকে। এক পর্যায়ে বাবা মুর্শিদকে না পেয়ে কেঁদে ফেলেন আর বলেন, আহা! ছেলেটা মনে হয় বাঁচবে না তাই মুর্শিদকে পেলাম না তাই বাবা বাড়ী ফিরে যাচ্ছেন এবং অনেকটা পথ চলে এসেছেন এমন সময় মুর্শিদ পিছন থেকে দৌঁড়ায়ে আসছেন আর বলছেন আহা! ছেলেটা মনে হয় বাঁচবে না তাই মুর্শিদকে পেলাম না। কাছে আসলে বাবা মুর্শিদকে মিষ্টি, পিঠা ও গোস্ত খেতে দেন। মুর্শিদ মুখে নিয়ে চিবাতে থাকেন আর পাত্রে ফেলতে থাকেন।

 

সে সময় মুর্শিদ বলতে থাকেন ‘ছোটটা না বড়টা, ছোটটা না বড়টা’। বাবা তখন বুঝতে পারেন, হয়ত এর কোন ভেদ আছে যার ফলে মুর্শিদকে পেতে এত সময় লেগেছে। মিষ্টি খেয়ে ঐ পাত্রে পায়খানা করে দেন। বাবা সব সহ বাড়ীতে নিয়ে আসেন। বড়ীতে এনে দেখে যেমন জিনিস তেমনি আছে কোথাও কোন ভাঙ্গা-চুড়া নেই বা কোন কমতি নেই। মিষ্টি চিবায়ে পাত্রে রেখেছিলেন এবং পায়খানা করেছিলেন তার কোন নমুনাই নেই। একদম ফ্রেশ। আর মাকে জানান যে, মুর্শিদ বার বার বললেন ছোটটা না বড়টা। মা বলেন, আমি মোরগ জবেহ করার সময় চিন্তা করেছিলাম মোরগ ছোটটা জবেহ করব না বড়টা জবেহ করব। হয়তো এমন ভাবাটাই ভুল হয়েছে। তখন বাবা বুঝতে পারেন কেন মুর্শিদকে পেতে এত কষ্ট হয়েছে।                 বর্ণনাকরীঃ জনাব শামস্‌ইদ্দিন আহম্মেদ খান, ১২/০৯/২০০৯ ইং

 

ঘটনা-২। অল্প সময়ে ঢাকায় গমন

ফজের মেম্বারের মায়ের কাছ থেকে যানাযায়। ফজের মেম্বারের নানা করিম মোল্লা মোহন সাহের বটতলার খেয়া ঘাট পার হলেন একঝুড়ি কলা নিয়ে। উদ্দেশ্য রাজবাড়ী বাজারে কলা বিক্রয় করে ঢাকায় যাবেন। ঐদিন ঢাকার জজ কোর্টে একটি মামলার রায় হবার কথা ছিল। করিম মোল্লা কলার ঝুড়ি রেখে অল্প সময়ের জন্য কোথাও যান। ইতিমধ্যে মুর্শিদ এসে কিছু কলা এলোমেলো করেন এবং কিছু কলা খেয়ে নেয়। করিম মোল্লা এসে দেখেন কলা এলোমেলো অবস্থা আছে। শুধু বললেন, মুর্শিদ এ কি করলেন! এগুলো বিক্রয় করে ঢাকায় যাব, সেখানে একটি মামলার রায় হবে আজ। মুর্শিদ একথা  শুনে কলার চুকলাগুলো ঝুড়িতে রেখে বলেন, যা নিয়ে যা। তিনি বাজারে নিয়ে এসে দেখেন যেমন কলা বাড়ী থেকে এনেছেলেন তেমনি আছে। কোথাও কোন কমতি নেই। কলা বিক্রয় করে তার ভাল লাভ হয় এবং ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় আদালত পাড়ায় হাঁটছেন আর মামলার রায়ের ব্যাপারে চিন্তা করছেন এমন সময় একটি কথা শুনতে পান যে, ‘মামলায় তোমায় কোন ক্ষতি হবে না চিন্তা করে কাম নেই বাড়ী যা’। এভাবে কয়েক বার শুনে উনার মনে হয় এতো মুর্শিদের কথা। তাকিয়ে দেখেন মুর্শিদ। করিম মোল্লা মুর্শিদকে ধরার জন্য দ্রুত হাঁটেন কিন্তু মুর্শিদ একটু বাঁক নিতেই অদৃশ্য হয়ে যান। করিম মোল্লা ঐ মামলায় জয় লাভ করেন। বড়ীতে এসে মুর্শিদকে অনেক সন্ধান করেছেন কিন্তু মুর্শিদ তাকে দেখা দেয় নাই।                                           বর্ণনাকারীঃ জনাব শামস্‌উদ্দিন আহম্মেদ খান, ১২/০৯/২০০৯ ইং